মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

ইসলামী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা

মাতৃভূমি সংবাদ 

নিজেস্ব প্রতিবেদক

• ব্যাংকটির মোট বিনিয়োগ ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৭ কোটি টাকা
• খেলাপি বিনিয়োগ ৯৪ কোটি ৩২২ কোটি টাকা
• প্রভিশন প্রয়োজন ৯২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা
• ৭ হাজার ৯২২ কোটি টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ
• ডিসেম্বর শেষে প্রভিশন ঘাটতি ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটির বিতরণ করা বিনিয়োগের (ঋণ) একটি বড় অংশই খেলাপি হয়ে পড়ায় এই বিশাল অঙ্কের প্রভিশন ঘাটতির মুখে পড়তে হয়েছে।

ব্যাংকটির ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত (অডিটেড) আর্থিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। আলোচিত হিসাব বছরে ব্যাংকের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষার দায়িত্ব পালন করেছে যৌথভাবে ‘মাহফেল হক অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস’ এবং ‘এ. ওহাব অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস’।

সোমবার (১ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে যৌথ নিরীক্ষকদ্বয় এই প্রভিশন ঘাটতির তথ্য প্রকাশ করেছেন।

নিরীক্ষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ইসলামী ব্যাংকের মোট প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দাঁড়ায় ৯২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আলোচিত বছর শেষে ব্যাংকটি মাত্র ৭ হাজার ৯২২ কোটি ৪১ লাখ টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বছর শেষে ব্যাংকটির প্রকৃত প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক প্রস্তুত করা এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মাত্র এক দিন পর, অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল এই বিশাল অঙ্কের প্রভিশন ঘাটতি সমন্বয় না করা সত্ত্বেও প্রতিবেদনটি অনুমোদন করে।

নিরীক্ষকরা জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকের এই নজিরবিহীন প্রভিশন ঘাটতির মূল কারণ হচ্ছে ব্যাংকটির বিনিয়োগ করা অর্থের সিংহভাগই খেলাপি হয়ে পড়া। গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে খেলাপি বিনিয়োগের পরিমাণই দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৩২২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী, এই বিপুল অঙ্কের খেলাপি বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যাংকের সাধারণ প্রভিশন রাখার কথা ছিল ৮৮ হাজার ৮৯৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অথচ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৫ হাজার ৮৮৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা রাখতে পেরেছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র খেলাপি বিনিয়োগের খাতেই ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ১১ কোটি ৩ লাখ টাকা।

এদিকে, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দেখানো হয়েছে ১৩৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা; যা আগের বছর (২০২৪ সাল) ছিল ১০৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত গত দুই বছরই ব্যাংকটিকে প্রভিশন সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ছাড় দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কৃত্রিম ছাড়ের সুবাদেই ব্যাংকটি কাগজে-কলমে মুনাফা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। যদি ব্যাংকটিকে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সবটুকু প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হতো, তাহলে মুনাফার পরিবর্তে ব্যাংকটিকে বিশাল অঙ্কের লোকসান গুনতে হতো।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD